সোনালী-কালোয় বর্ণিল হলো বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের ‘উই মহাসম্মেলন’

১৪ অক্টোবর, ২০২২ ১৩:২৩  
পাঁচ বছর পূর্তীতে অনলাইন থেকে অফলাইনে এলো দুই হাজার সফল নারী উদ্যোক্তা। তাদের পাশপাশি জাপান, সিঙ্গাপুর ও মালোয়েশিয়াসহ বিশ্বের ১০১টি দেশ থেকে অনলাইনে সংযুক্ত লক্ষাধিক উদ্যোক্তার ভার্চুয়াল অংশগ্রহণে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পর্দা উঠলো নারী উদ্যোক্তা মহাসম্মেলন ‘উই সামিট ২০২২’। নারীর চিরচেনা গোলাপী রঙের অচলায়তন থেকে কালো আর সোনালী রঙের সাজে উদ্যোক্তারা সেজেছিলো নতুন রূপে। শুক্রবার সকালে বর্ণিলসাজে মহাসম্মেলনের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। উদ্বোধনের পর থেকেই সভা-সেমিনারের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ও সেবাও প্রদর্শন করা হচ্ছে দুইদিনের এই সম্মেলনে। উই সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশা’র সঞ্চালনায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্টার টেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা খান। অন্যান্যের মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম,কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইয়িং অথরিটি’র ডেপুটি কন্ট্রোলার শাহিনা পারভীন, ব্যাংক এশিয়ার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান মোল্লা, বিশ্ব ব্যাংকের প্রাইভেট সেক্টর বিশেষজ্ঞ হোস্না ফেরদৌস সুমি এবং অনলাইনে উইয়ের উপদেষ্টা ও সিল্কক গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৌম্য বসু বক্তব্য রাখেন। https://digibanglatech.news/news/event/86504/ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় পদে নারীরা নিজেদের যোগ্যতায় জায়গা করে নিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রীসভার জ্যেষ্ঠতম সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এখন দেশে নারীদের জয়জয়াকার। দেশে এখন এক ডজন সচিব, ৫জন নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী বিচারপতি। প্রধানমন্ত্রী যোগ্যতার স্বীকৃতি দিয়ে তাদেরকে এই স্থানে নিয়ে এসেছেন। নারীদের কাছে সম্পদ যত নিরাপদ, পুরুষের কাছে ততটা নিরাপদ নয়। নারীরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেলে পরিবার ও দেশের জন্য ভালো। নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সারা দেশে প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করেছে সরকার।’ অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, সরকার দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিল। দেশ এখন ডিজিটাল। এই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে নারীরা প্রযুক্তিবান্ধব ব্যবসা করছেন। আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। সভাপতির বক্তব্যে সম্মেলনের আয়োজক উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স (উই) ট্রাস্টের সভাপতি নাসিমা আক্তার জানান, মহাসম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের সব জেলা থেকে আজ উদ্যোক্তারা অফলাইনে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এবার উইকে উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। যারা এখন দেশের বাইরে পণ্য পাঠাচ্ছেন তারা আগে দেশের চাহিদা মিটিয়ে পরে বিদেশে পাঠান। আমার স্বপ্ন আমি দেশের বাইরে সবগুলো দেশে উই চ্যাপ্টার করবো। তবে আগে স্থানীয় চাহিদা আগে মেটাবো। ২০২৫ সাল নাগাদ ১০ লাখ দক্ষ নারী উদ্যেক্তা তৈরি করবো।’ সম্মেলনের প্রথম দিন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসার পরিকল্পনা প্রণয়ন, কম দামে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা, পণ্য সরবরাহ সমস্যা, ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়ন, ফেসবুকে পণ্যের প্রসার, ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে পণ্যের প্রচারণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা আয়োজন করা হয়। অনলাইনেও হয় আটটি সেশন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সেরা ২০ নারী উদ্যোক্তাকে দেওয়া হবে ‘জয়ী’ সম্মাননা। সম্মননা অনুষ্ঠানে সভাপতি থাকছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এর আগে হবে ন্যাশনাল ইয়্যুথ অ্যাসেমব্লি।